মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
সকালের বার্তাঃ- টাঙ্গাইলের সখিপুরে এনজিও কর্মীকে ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত মোঃ কাদের ভূইয়া (৪০ ) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ মেহেদী হাসান (২২) ও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে খালু কর্তৃক অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী ধর্ষন মামলার অভিযুক্ত মোঃ আঃ জলিল (৪১) গ্রেফতার করছে র্যাব ১৪ সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল।
বাদীর এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ধৃত অভিযুক্ত পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী ও এনজিও এর মালিক। উক্ত এনজিওতে চাকুরি করার সুবাদে ধৃত অভিযুক্ত ভিকটিমকে প্রায়ই কু-প্রস্তাবসহ শ্লীলতাহানির চেষ্টা করতো। যার প্রেক্ষিতে ভিকটিম চাকুরী ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ধৃত ধর্ষক ভিকটিম কে ফোন দিয়ে অফিসের সকল হিসাবপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বললে ভিকটিম গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. তারিখ দুপুর অনুমান ০১:০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম স্বামীসহ এনজিও অফিসে যায়। ধৃত অভিযুক্ত কৌশলে গ্রাহকের ০২ টা হিসাব বই আনতে ভিকটিমের স্বামীকে বাড়িতে পাঠায়। উক্ত সময়ে ভিকটিম একা থাকার সুযোগে ধৃত অভিযুক্ত এনজিও অফিসের ভিতরে জোড়পূর্বক ধর্ষন করে বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সখিপুর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৯, তারিখ-১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি., ধারা-৯(১) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০। উক্ত মামলা রুজু হওয়ার পর সিপিসি-৩ র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে কার্যক্রম শুরু করে।

এরই প্রক্ষিতে সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইল এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল ধৃত অভিযুক্তের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ২২ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিঃ সময় বিকাল অনুমান ১৫:১০ ঘটিকায় টাঙ্গাইল জেলার যমুনা পূর্ব থানাধীন যমুনা গোলচত্তর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার এনজিও কর্মীকে ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত মোঃ কাদের ভূইয়া (৪০), জেলা- টাঙ্গাইল’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
আরেক ঘটনায় এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, বাদীর নাবালিকা (১৫) মেয়েকে ধৃত অভিযুক্ত মোঃ মেহেদী হাসান (২২) এজাহারনামীয় অন্যান্য অভিযুক্তদের সহায়তায় গত ২০ জুলাই ২০২৫ খ্রিঃ অনুমান সকাল ০৮:০০ ঘটিকায় অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে আটক রেখে ধৃত অভিযুক্ত ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। বাদী বিষয়টি জানতে পেরে বিজ্ঞ আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতের আদেশে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানায় ধর্ষণ মামলা নং-০৩, তারিখ-০২ আগস্ট ২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- ৭/৯(১)/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ রুজু হয়।
এরই প্রক্ষিতে সিপিসি-৩, র্যাব-১৪, টাঙ্গাইল এর আভিযানিক দল ২২ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিঃ সময় বিকাল ১৬:০০ ঘটিকায় টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানাধীন ভুয়াপুর ইব্রাহীম খান কলেজ গেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত মামলার অভিযুক্ত মোঃ মেহেদী হাসান (২২) জেলা-টাঙ্গাইল’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

তৃতীয় আরেকটি ঘটনার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর মামাতো বোনের স্বামী ধৃত ধর্ষক মোঃ আঃ জলিল (৪১) সম্পর্কের জেরে ভিকটিমের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করত। উক্ত যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে ধৃত ধর্ষক কৌশেলে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ভিকটিমের গোসলের আপত্তিকর ভিডিও ধারন করে। পরবর্তীতে ভিকটিমকে ধারণকৃত গোসলের ভিডিও দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয় এতে ভিকটিম রাজি না হলে ধারনকৃত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে ভাইরাল করার হুমকি প্রদান করে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. রাত্রী অনুমান ২০:০০ ঘটিকায় ভিকটিমের শয়ন ঘরে প্রবেশ করে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। ভিকটিম তাতে রাজী না হয়ে আপত্তিকর ভিডিও ডিলেট করার জন্য অনুরোধ করে। ধৃত ধর্ষক এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে এবং কাউকে কিছু বললে গোসলের ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করে চলে যায়। পরবর্তীতে ০১ মাস পর প্রেগনেন্সি টেষ্ট কিট দিয়ে পরীক্ষার করে ভিকটিম গর্ভবতী জানতে পেরে ধৃত অভিযুক্ত কর্তৃক গর্ভপাত ওষুধ সেবন করালে ভিকটিম গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৩, তারিখ- ১৯ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. ধারা- ৯(১) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ তৎসহ ৮(২) পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ তৎসহ ৩১৩ পেনাল কোড।

এরই ধারাবাহিকতায় একই কোম্পানীর অপর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. তারিখ রাত অনুমান ২০:০০ ঘটিকায় টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার যোগীরকোপা এলাকা হতে উক্ত মামলার ধর্ষককে মোঃ আঃ জলিল (৪১), জেলা-পঞ্চগড়’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতার কৃত সকল আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
Leave a Reply